ময়মনসিংহে চাঞ্চল্যকর হাসান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উৎঘাটন করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি)। ডিবি’র অভিযানে হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়া ৪ঘন্টার মাঝে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ জনকে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় ইসলামবাগ ও পাটগুদাম(বেড়িবাধ) এলাকার মো রাকিব (২১) ও মোঃ হান্নান (২০) দু-জনই কেওয়াটখালি রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। তাহারা উভয়েই ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। কিন্তু তাহারা ঠিকমতো প্রস্তুতি না নেওয়ায় পরীক্ষা অংশগ্রহন করেনি।
পাটগুদাম বিহারী ক্যাম্পে এলাকার নরসুন্দর আলী(২০) এর সেলুন নিয়মিত চুল কাটাতো হান্নান। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হান্নান চুল কাটানোর জন্য আলীকে ফোন দেয়। তখন আলী সাথে হান্নানের মোবাইলে কথা কাটাকাটি হয়। ঐ সময় রাকিব হান্নানের সাথে ছিল। তখন রাকিব মোবাইল ফোনে আলীর সাথে কথা বললে আলী রাকিবকেও গালাগাল করে। শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যার দিকে আলী রাকিবকে ফোন দিয়ে বলে তাহাদের এই মনোমালিনের বিষয়টি সমাধান করবে। রাকিবকে তার বাসা থেকে বের হতে বলে। তখন রাকিব একা বাসা থেকে বের হয়ে হাজী কাসেম আলী কলেজের মাঠে আসলে আলীসহ তার সাথে থাকা আরও ১৫/২০ জন রাকিবের সাথে তর্ক বিতর্কে ঝড়ায়। এক পর্যায়ে আলীর হাতে থাকা সুইজগিয়ার চাকুর হাতল দিয়ে রাকিবের মাথায় আঘাত করে এবং কিল ঘুষি মারে। এই মারামারি বিষয়টি নিয়ে রাকিব কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দিয়ে বন্ধু হান্নান, ইদনা, রাকিব ও সাঈদসহ ৭/৮ জন বাসায় ফেরার পথে একই তারিখ রাত্রে অনুমান ১০ঘটিকায় হাজী কাশেম আলী কলেজের সামনে পৌঁছলে আবারো আলীর নেতৃত্বে আরও ১৫/২০জন সংঘবদ্ধ হয়ে রাকিব ও তার বন্ধুদের দাড় করায় এবং কেন থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেল এজন্য কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয় । এসময় রাকিবের সাথে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে হাসান (২১) এর থুতনির নিচে এবং বুকে আঘাত করে। এক পর্যায়ে রাকিব তার সঙ্গীদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয় লোকজন হাসানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা রুজু হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা নং-৭৩, তারিখ-২৬/০৫/২০২৪ ইং ধারা-১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০২/৩০৭/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফারুক হোসেন এর নেতৃত্বে হাসান হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকায় ১। মো রাকিব (২১) পিতা আব্দুর রহমান, মাতা-জহুরা খাতুন,এবং ২.মোঃ হান্নান (২০), পিতা-মোঃ বাবুল মিয়া, মাতা- সুবেদা খাতুন,সাং- ইসলামবাগ পাটগুদাম, থানা-কোতোয়ালি, জেলা ময়মনসিংহকে ৪ ঘন্টার মধ্যে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শিকারী কান্দা এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
