রওশন এরশাদ ও মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী : ফাইল ছবি
সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ও ১৪৯-ময়মনসিংহ- ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রওশন এরশাদ এবং মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীকে অভিযুক্ত করে আজ বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহন করে আবেদনটি পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পি,বি,আই) কে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) মোঃ খালেদুজ্জামান পারভেজ বুলবুল (৪৮) পিতা- মৃত ইব্রাহীম পারভেজ অ্যাডভোকেট, সাং- ২৭/মোহাম্মদ আলী রোড ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন, থানা- কোতুয়ালী, জেলা- ময়মনসিংহ বাদী হয়ে ময়নসিংহের বিজ্ঞ সিনি: জুডি: ম্যাজি: ১ নং আমলী আদালত হাজির হয়ে ফৌজ ধারী দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৮৭/৩৪ দঃ বিঃ ধারায় আবেদন করেন।
আবেদনে অভিযুক্ত’রা হলেন, ১। রওশন এরশাদ (৮৫), স্বামী- মৃত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সাং- সুন্দর মহল গঙ্গাদাস গুহ রোড, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন থানা- কোতুয়ালী জেলা- ময়মনসিংহ। ২। মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী (৫৮) পিতা- মৃত আশরাফ ফারুকী, সাং- দিক পাইত, থানা-জামালপুর সদর, জেলা- জামালপুর (সাবেক জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার, ময়মনসিংহ) সহ ১০/১২ জন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ২য় তলার ব্যক্তিগত রুমে। দেখিলে চিনিবে।
বাদী তার আবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনার তারিখ ও সময়:- তাং- ১৪/১২/২০১৩ ইং তারিখ মোতাবেক বাংলা ১৪২০ সনের ৩০ অগ্রহায়ন রোজ শনিবার, দিবাগত রাত অনুমান ০৭:৩০ ঘটিকায়।
বাদীর আবেদনের বিবরণের জানাযায়, উপরোক্ত মোকদ্দমার বাদী বাংলাদেশ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনে অংশ গ্রহণ করিয়া নির্বাচনে প্রদ্বিন্দ্বতা করার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) এর যোগ্য প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করিয়া বিগত ইং ০৫/১২/২০১৩ তারিখ রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ এর কার্যালয় বাদীর দাখিলী মনোনয়ন প্রার্থী যাচাই বাচাই পূর্বক বৈধ ঘোষনা করায় বিগত ১৩/১২/২০১৩ তারিখ মনোনয়ন পত্রটি বৈধ বলিয়া ঘোষনা করার পর বিগত ইং ১৪/১২/২০১৩ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তার দলীয় প্রতিক “কুড়ে ঘর” নির্ধারণ করার পর ঐদিন দিবাগত রাত অনুমান ০৭:৩০ ঘটিকার সময় বাদীকে তাহার ময়মনসিংহ শহরের নিজস্ব বাসা হইতে অজ্ঞাতনামা সাদা পোষাকের ১০/১২ জন লোক ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসিয়া ১ নং আসামীর প্ররোচনায় ও ২ নং আসামীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় ও তত্ত্বাবধানে ২ নং আসামীর ময়মনসিংহ শহরস্থ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এর কার্যালয়ে বেআইনীভাবে আটক রাখিয়া মৃত্যুর ভয় প্রদর্শন পূর্বক মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের জন্য স্বাক্ষর নিয়া ও উক্ত স্বাক্ষর ব্যবহার করিয়া বাদীর বৈধ মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করিয়া বাদীর অপূরনীয় ক্ষতি করিয়াছে। বিধায় ন্যায় বিচারের আশায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় হুজুরাদালতে মোকদ্দমা দায়ের করিতে বিলম্ব হইল। অত্র দরখাস্তের সহিত ফিরিস্তি মূলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হইল।
সেমতে হুজুর সমীপে বিনীত আরজ, উপরোক্ত অবস্থাধীনে সুবিবেচনা পূর্বক আসামীগনের বিরুদ্ধে ৩৪১/৩৮৭/৩৪ দঃ বিঃ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দিয়া সুবিচার করিতে মর্জি হয়।
বিজ্ঞ আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহন করে আবেদনটি ময়মনসিংহ পিবিআই কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন ।
মামলার বাদীপক্ষ আইনজীবী মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, বাদী সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অপরদিকে দেশে সাধারন ভোটাররা হারিয়েছে তাদের ভোটের অধিকার। স্বাধীন বাংলাদেশের সাধারন মানুষকে অধিকার থেকে আর কেহ দূরে রাখতে চেষ্টা না করতে পারে, সেজন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাদী ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছি আদালতে। বিজ্ঞ আদালত আবেদনটি আমলে নিয়েছেন । আমরা ন্যায় বিচার পাবো ।
