ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব : ইতিহাস-ঐতিহ্য-উন্নয়ণ স্মারক, ব্যক্তিগত আক্রোশে নেতিবাচকে উত্থাপনের নিস্ফল চেষ্টা ময়মনসিংহ।
শিক্ষা সংস্কৃতির চারণ ভুমি এই ময়মনসিংহ জেলা। এই মাটিতে জন্মেছে অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। যাদের এখনো স্মরণ করে এই অঞ্চলের মানুষ। ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ছুড়ে ফেলে তথাকথিত নতুনের কেতন উড়ালে স্বীয় অস্তিত্ব বিলীন হবে। সকল কিছু নিয়েই আমাদের চলতে হবে। বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতি দায়িত্ব, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রকাশ করা দাসত্ব নয়, নয় নিজেকে বিকিয়ে দেয়া। সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়। আমাদের ভুল হতে পারে বা থাকতে পারে। শুধরানোর কি কোন জায়গা নেই। একক কর্তৃত্বে আমরা ভুলে যাই আয়না দেখতে, তাই ভুল করি। গা ভাসিয়ে দেই সেই ঘোর অন্ধকারে। নিজেকে ও গোটা সমাজকে ঠেলে দেই অনিশ্চয়তায়। ভবিষ্যত প্রজন্ম তখনই দ্বিধায় পড়ে। তখন প্রজন্ম ও প্রকৃতিই সঠিক দিশা দেখায়। দেখেছে গোটা বিশ্ব, নজির স্থাপন করেছে আজকের প্রজন্ম।
যাক সে কথা। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে কথায় আসি। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫৯ সালে। সমাজের শিক্ষিতজনই এই প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন। সংবাদকর্মী তো ছিলেনই। ছিলেন ডাক্তার, আইনজীবী, অধ্যাপক-শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সরকারি-বেসকারি প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তারা। সংবাদকর্মীরা তাদের কাজ সারতেন এখান থেকেই। এছাড়া প্রত্যেকে কাজ সেরে নিজেদের মনের খোরাক বিনিময় করতে আসতেন এই প্রেসক্লাবে। এই বরেণ্য ব্যক্তিদের মুখের কথা শোনার জন্য অনেকেই উন্মুখ হয়ে থাকতেন। কথা হতো সমাজের উন্নয়ণ নিয়ে, রাজনীতির বিভিন্ন চৌকস সংলাপে চলতো তর্ক-বির্তক।
এখন আর সংবাদকর্মী ছাড়া অন্য কোন পেশার মানুষ এই প্রেসক্লাবের সদস্য হতে পারে না। আজ অনেক সংবাদ মাধ্যম। অনেক সাংবাদিক। পেশাদারিত্বের বিবেচনায় এই প্রেসক্লাব এখনো সমাজের উন্নয়ণে অনেক কাজ করছে। এই প্রেসক্লাব পরিচালনার দায়িত্বে প্রতিবছর নির্বাচন হয়। দুটি প্যানেল হয়। কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্যানেল নয়। যেহেতু সাংবাদিক সংগঠন তাই কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের স্থান নেই এখানে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ এখানে নেই।
প্রেসক্লাব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন পরপর দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে পারবে। সেই সুবাদে ২০২৩ সালে সদস্যদেও সরাসরি ভোটের মাধম্যে অমিত রায় নির্বাচিত হন, ২০২৪ সালে নির্বাচন না দিয়ে নির্বাহী কমিটি ও সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে অমিত রায়কে পুনঃরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সেইসাথে ২০২৫ সালে বাবুল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়।
৫ আগষ্ট পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সংলাপ কি থাকার সুযোগ আছে এখানে। তারপরও নির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্লাব সদস্য সাইফুল ইসলামের নের্তৃতে একটি প্যানেল মনোনয়নপত্র নির্ধারিত সময়ে জমা দিয়ে বিধি মোতাবেক রশিদ নিয়ে যায়।
অপরদিকে বাবুল হোসেনের নের্তৃতের প্যানেলটি মনোনয়ন পত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে রশিদবিহীন কৌশলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এতেই বাবুল হোসেন নের্তৃতের প্যানেল জমা না দিতে পারায় নির্বাচন নিয়ে নানা কুটকৌশল নিতে থাকে। একপক্ষের অভিযোগ, এই প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধাচারণকারীদের মদদে বাবুল হোসেন বিভিন্ন সমস্যা করতে থাকে। এই প্রেসক্লাব নিয়ে বিভিন্ন অযাচিত-অবান্তর ও হাস্যকর কথা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি করছে। যারা এই প্রেসক্লাব সর্ম্পকে জানেন ও বরেণ্য ব্যক্তিদেও চিনেন, তারা বিষয়টি নিয়ে কিছু বলবেন না। কিন্তু এই প্রেসক্লাব নিয়ে এমন মন্তব্য কোনভাবেই কাম্য নয়। অনেকেই জেনেছেন এই প্রেসক্লাবের কিছু অসাধু সদস্য নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই প্রয়াস।
৫ আগষ্টের পর সকল জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, সংস্কার হচ্ছে। তবে সংস্কার প্রয়োজন নিজের। নিজের দিকে তাকান, মানসিকতার পরিবর্তন করুন। একবার ভাবুন কারা এই প্রেসক্লাবের সংস্কার চায়। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ দিতেই হয়, যেভাবে ধৈর্য্যরে সাথে মোকাবেলা করছেন। যাদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা-ভক্তি নেই এই প্রেসক্লাব নিয়ে, তারা করবেন এই প্রেসক্লাব সংস্কার। জেলাবাসীর প্রশ্ন, এই প্রেসক্লাব সংস্কারের আপনারা কারা ? যদি সংস্কার করতে হয়, যারা এই প্রেসক্লাবের সদস্য তারাই করবেন সংস্কার। এই প্রেসক্লাবের বাইরে থেকে আপনি করবেন সংস্কার। আপনার এই অনধিকার চর্চা মেনে নেবে সকলে, এটি ভাবলেন কি করে। আমি ব্যক্তিগত আক্রমন পছন্দ করি না। এই জেলার সকলে সকলকেই চিনে ও জানে। সকলের অতীত ও বর্তমান এবং কর্মপরিধি জানে। নিজেদের আর নোংরাভাবে বলা ঠিক হবে না। প্রকাশ হলে অনেকের হাস্যরসের উপাত্ত হবে। হতে পারে আপনার সাথে গুটি কয়েকজনের সাথে খারাপ সর্ম্পক। তাই বলে গোটা সমাজ ঠিক করার দায়িত্ব আপনার নয়। পরামর্শ দিতে পারেন, সুপারিশ করতে পারেন, পারেন অনুরোধ ও তদবীর করতে। তাই বলে মাথায়-গলায়-ঘাড়ে হাত দিয়ে দিবেন তা কি হয়। আর সেই পক্ষেরও তো পরিচয় আছে। সময় সুযোগে প্রেসক্লাবের ভিতরে ও বাহিরে যারা এসবের ইন্ধন দিচ্ছে তাদেরও চিনছে সকলে। ব্যক্তিগত ফায়দা নেয়া ও দেয়ার জন্য এই প্রেসক্লাবকে কলুষিত করা ঠিক হবে না। আপনার ভাষায় মানছি এই প্রেসক্লাবে অসৎ লোক আছে, যারা ক্ষমতার ব্যবহারে নিজেরা অনেক কামিয়েছেন। যারা সেরকম সমাজ তাদের সেই রকম মুল্যায়ন করে ও করবে। তাই বলে আপনিও গা ভাসিয়ে দিবেন তাদের দলে। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে মানসিক বৈপরীত্য অবস্থানের কারনে একটি মহল আগুনে গা সেঁকে নেয়ার চেষ্ঠা করছে। এখানে সেঁকে নেয়ার চেয়ে আগুনের উত্তাপে ঝলসে যাওয়ার উপক্রম হয় কি না সেটা দেখা দরকার। তবে বেশি হলে অনেকেই ঝলসে যেতে পারেন।
এমন থমথমে অবস্থায় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অমিত রায় জানান পরপর দুই মেয়াদ আমি পূর্ন করছি। অনেক কিছুই সামাল দিতে হয়েছে। তবে যে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব নিয়ে গর্ব করি। এই প্রেসক্লাবের সদস্য হতে পেরে আমি আনন্দিত। অনেক র্কীতিমান এই প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন, আছেন। এর সুনাম নষ্ট করা ঠিক হবে না। আমি মনে করিনা এই প্রেসক্লাবের কোন সদস্য এটি করতে পারে। তবে বহিরাগত অনেকেই আজ আঙ্গুল তুলছেন। হয়তো কোন ব্যক্তি স্বার্থে-আক্রোশে এসব করছেন। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, ঠিক তখনই সেই একটি মহল মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। এটি প্রেসক্লাবের একান্ত ভিতরের বিষয়। এর কথাতো বাহিরে যাওয়ার কথা নয়। আশা করছি অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি আরও জানান, আমি মনে করি ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পবিত্র জায়গা, মানুষের আস্থার জায়গা। ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব নিয়ে কোনো চক্রের হটকারি মতবাদ বা উস্কানিমূলক আচরন ঠিক না।
এনিয়ে কথা হয় সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাচনের গাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। যারা গাড়ি ধরতে পেরেছে তারাই চড়েছে। বাকিরা রয়ে গেছে স্টেশনে। সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়। প্রতিপক্ষ যে ধরনের কথা বলছে, তা ঠিক নয়। মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি বা অন্য কিছু। তা আগের দিন কেনো জমা দিল না। বা আমাদের জমা দিতে বাধা দিল না কেনো। জেলা প্রশাসক যখন প্রতিনিধি পাঠালেন তখন তাদের দেখালেন বা বললেন না কেনো। আর নির্বাচন কমিশন পক্ষপাত করেছেন এটি কি ভুল। তারা তো পক্ষপাত করেছেন। এই দুষ্টু লোকেরা আগে কোথায় ছিলেন। এই প্রেসক্লাব নিয়ে তারা শুধু নিগেটিভ ধ্যান ধারনা পোষণ ও প্রকাশ করে। তাদের অনেকেরই বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন আছে। তারা সেটিকে সংস্কার করে না কেনো। সেটিকে তো কেউ সংস্কার করতে চায় না। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে একটি মহল। অনেকেই বলছে এই প্রেসক্লাবের কিছু সদস্যের মদদে এমনটি হচ্ছে। কোন অসৎ উদ্দেশ্য মেনে নেয় হবে না, কঠোরভাবে দমন করা হবে। সত্য ন্যায় প্রতিষ্টায় আমরা বদ্ধপরিকর। বেলা শেষে আমরা কিন্তু এক অভিন্ন।
সাবেক এক সাধারণ সম্পাদক বলেন,
নির্বাচন তো একদিনই হয়। পরদিন কিন্তু আবার সবাই এক। এই প্রেসক্লাবের ছাতার নিচে। প্রেসক্লাব ঐতিহ্য সংস্কৃতি আর স্বার্থ রক্ষায় সকলে একসাথে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে এটি কোন ব্যক্তির নয়, এটি একটি প্রতিষ্টান। কারো ব্যক্তিগত আক্রোশে এই প্রেসক্লাব যেনো ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। কোন অপশক্তিকে মাথাচাড়া দিতে দেয়া হবে না। স্বচ্ছতায় জেলার উন্নয়ণ ধারাবাহিকতায় এই প্রেসক্লাব ব্যপক ভুমিকা রাখবে বলে ময়মনসিংহবাসী বিশ্বাস করে।
