পারিবারিক কলহের ঝেড়ে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় রোজা মুনিয়া রনজা (৩০) নামে এক নারী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া ঐ নারী কাতার প্রবাসীর স্ত্রী।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, আত্মহত্যাকারী রোজা মুনিয়া (রনজা) উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বাদলীপুর গ্রামের কাতার প্রবাসী বেল্লাল হোসেন এর স্ত্রী। তার তিন বছরের ১ কন্যা সন্তান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩-মার্চ) বিকাল সারে ৩টায় বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে। অ্যাম্বুলেন্স যোগে ভোলা নেওয়ার পথেই সন্ধ্যা ৭টায় মারা যায়।
আত্মহত্যাকারী রনজা’র ননদ সাহিদা বেগম সাংবাদিকদের জানান, ছুটি শেষে গত মাসের ১৬ তারিখ আমার ভাই বেল্লাল কাতার যাওয়ার জন্য ঢাকায় যান। সাথে তার স্ত্রী নিহত রনজাও যান। বেল্লালকে ফ্লাইটে পৌঁছে দিয়ে রনজা চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলায় তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এবং সে গতকাল বাড়ি ফিরে তার বাসার কিছু আসবাবপত্র অপহরণের অভিযোগে আজ আমাদের সাথে সামান্য বাকবিতন্ডা হয়। বিকালে আমাদের চোখের আড়ালে বিষপান করলে তাৎক্ষণিক ভাবে আমি হাসপাতালে নিয়ে আসি।
এঘটনার পর আত্মহত্যাকারী ঐ নারীর স্বামী বেল্লাল হোসেন মুঠোফোনে জানিয়েছেন, আমার স্ত্রীর কিছু কসমেটিক সহ অন্যান্য মালামাল সঠিকভাবে না পাওয়ায় সে আমাকে জানালে আমি কিনে দেওয়ার আশ্বাস দেই। কিন্তু সে আমার ৩ বোনকে কল করে ডেকে এনে এবিষয়ে অভিযোগ করলে তাদের মধ্যে কিছু বাকবিতন্ডা হয়। তারপর সে বাজারে গিয়ে বিষ কিনে এনে আমাকে বললে আমি খেতে নিষেধ করেছি।
এবিষয়ে তজুমদ্দিন থানার এসআই অসীম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ভোলা মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এবং আমরা ঐ নারীর বাবার বাড়িতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খবর দিয়েছি তারা খুব শীঘ্রই আসবে বলে জানিয়েছেন।
