শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্ত ঘেষা বসবাসকারী গারো পাহাড়ে বন্য হাতির ভয়াল থাবা ও আক্রমনে আর কত প্রাণ ঢলে পরবে সীমান্তে বসবাসকারীরা জানতে চায় । ১৯৯১ সালে থেকে শুরু করে গত মঙ্গলবার একই রাতে ২০শে মে রাতে গান্ধিগাও নিবাসী আজিজুর রহমান আকাশ ও অটো চালক এফিলিস হাগিদ, হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে দুইজন মারা যায় । এ ছাড়াও আমজাদ সহ তাওয়াকুচা গ্রামের মৃত সামু শেখের ছেলে রবিজল(৫৫) তার কষ্টে অর্জিত ফসল বাচাঁতে হাতিকে তাড়া করলে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে নিহত হয় বিগত সময়ে ।
এ নিয়ে দীর্ঘ ৩১ বছরে হাতির আক্রমনে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ । আজও এর কোন সমাধান না হওয়ার ফলে বন্য হাতির অত্যাচার ও হামলায় ফসলের মাঠ ও বাড়িঘর, গজনীর বিট অফিস তছনছ করে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত করে আসছে গারো পাহাড়ে বন্যহাতির দল । শুধুমাত্র ফসল নয় বিগত সময় থেকে গতকাল পর্যন্ত ৩৫জন নিরীহ মানুষকে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে তাজা প্রাণ দিতে হয়েছে । হাতি নিধনের অনেক কার্যক্রম সরকারী ও বেসরকারী এনজিও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ খরচ করা হলেও তা স্থায়ীভাবে কোন কাজে আসেনি । হাতির পাল তাড়াতে সিমান্তবাসীরা রাতের ঘুম হারাম করে দলবদ্ধ হয়ে বাড়িঘর ও ফসলের মাঠ পাহাড়া দিয়েও লাভ হচ্ছে না । ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে বিগত ৩১ বছর আগে বন্য হাতির একটি দল বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করে গারো পাহাড়ে অভয়াশ্রম গড়ে তুলে বংশবৃদ্ধি করেছে । আজ হাতির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সিমান্তবাসী গারো পাহাড়ের এলাকায় বসবাসকারীরা । ভারতের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ফলে হাতির পাল আর ফিরে যেতে না পেরে বাংলাদেশেই থেকে যায় । তাদের খাদ্যের সংকট থাকায় পাল বেধে লোকালয় থেকে বাহির হয়ে এসে ফসলে হামলা চালায় । হাতির দল এখন আগের মতো আর ভয় না পেয়ে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে । পাহাড়ের গজনী, ছোট গজনী,নকশী,তাওয়াকুচা, কাংশা বাকাকুড়া,গরুচরণ দুধনই,পানবর সহ অন্যান্য গ্রামে হাতির পাল বেধে হামলা চালায়।
ভূক্তভোগীরা জানান, হাতির অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ এ থেকে রক্ষা পেতে স্থায়ী ভাবে সমাধানের দাবি জানান এলাকাবাসী । গতকাল শুক্রবার রাতে হাতিরপাল সিমান্ত এলাকায় আক্রমন করে ফসলের পাকা ধান, কলার বাগান ও বসত বাড়িতে হামলা করে বাড়িঘর তছনছ করে ফেলে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত দুই পরিবারকে সহায়তা ও হাতি তাড়ানোর জ্বালানী তৈল প্রদান করেন ।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান সমস্যাটা দীর্ঘদিনের উর্ধতন কর্মকর্তা মহোদয়ের সাথে হাতির বিষয়ে কথা বলে পাহাড়বাসীকে বাচাঁতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থায়ী সিদ্ধান্ত বাহির করতে হবে । শেরপুর তিন আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল হাতির আক্রমনে নিহত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে বন্যহাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন । এ সময় তিনি বলেন বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এবার হাতি ও মানুষের যুদ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমাধানে কাজ করা হবে । বিগত বিএনপির সরকারের সময়ে আমরা হাতির অত্যাচার থেকে সীমান্তবাসীকে বাচাঁতে কাজ করেছি । এলাকাবাসী হাতি ও মানুষের যুদ্ধ বন্ধে এবার স্থায়ী সমাধানের জন্যে জোর দাবি জানিয়েছেন।
