ময়মনসিংহ সদর উপজেলাধীন শম্ভুগঞ্জ ইউ.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের অবৈধ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেনের অপসারনের দাবীতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
স্মারক লিপিতে উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহ নগরীর ৩৩ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত শম্ভুগঞ্জ ইউ, সি. উচ্চ বিদ্যালয় একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আওয়ামী ফ্যাসিষ্টের একজন দোসর। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে তার জোড়ালো ভূমিকা ছিল। তিনি তার পন্থী কতিপয় শিক্ষককে সাথে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার অবৈধভাবে দখল করার জন্য এক গভীর নকশা তৈরী করেন। সেই লালসায় অর্থ ব্যয় করে বিগত ২০.০৮.২০২৪ইং তারিখ এলাকার কিছু ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। কর্মরত প্রধান শিক্ষক এ.কে. এম জহিরুল ইসলামকে তারা অস্ত্র প্রদর্শনসহ মব সৃষ্টি করে হুমকি প্রদান করেন। শহর থেকে প্রধান শিক্ষককে তুলে এনে বিদ্যালয় অফিস কক্ষে অস্ত্র প্রদর্শন করে বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করাতে বাধ্য করে।
অতপর প্রধান শিক্ষককে মাইক্রোবাসে তুলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আই, সি, টি) মহোদয়ের নিকট নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও আরোও একটি পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অত্যন্ত সুকৌশলে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন প্রক্রিয়াটির নেতৃত্ব দেন।
জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো শিক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রনালয় থেকে পুনর্বহালের এবং EFT তে নাম অন্তর্ভুক্ত করণসহ বেতন ভাতা প্রদান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে মতে, আমরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেনের অপসারণ দাবী করছি। এ. কে. এম জহিরুল ইসলামকে তার স্বপদে পুনর্বহালের জোর দাবী জানাচ্ছি।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আজ রবিবার (৩ মে ২০২৬ খ্রি.) দুপুর ১২ ঘটিকায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে লিখিত স্মারক লিপি পাঠ করেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোখলেছুর রহমান।
স্মারক লিপিতে উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শম্ভুগঞ্জ ইউ.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেনের মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্লাস রুমে আছি বলে জানান।
এছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের এস.এস.সি পরীক্ষার ফরমপুরণে অনিয়ম ও শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনাকে অগ্রাহ্য ও অমান্য করেছেন। এবং তিনি নির্বাচনী পরীক্ষা-২০২৫-এ অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পুরণ করেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
