ব্রহ্মপুত্র নদের বিধৌত মহুয়া-মলুয়া-বীরাঙ্গনা সখিনা মৈমনসিংহ গীতিকা সহ ইতিহাস-ঐতিহ্য শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রাচীনতম পীঠস্থান দি সিটি অব আর্ট এন্ড কালচার খ্যাত আমাদের প্রিয় ময়মনসিংহ।
দেশের অষ্টম বিভাগীয় নগরী ও দ্বাদশ সিটি কর্পোরেশন ময়মনসিংহ।
ভূগোলিক কারণে এটি বাংলাদেশের বিশেষ শ্রেণীভুক্ত জেলা। এই জেলা ছিল তৎকালীন ভারত উপ-মহাদেশের বৃহত্তম জেলা। ময়মনসিংহ জেলার আকার সময় সময় পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলা থেকে টাঙ্গাইল মহুকুমাকে পৃথক করে আলাদা জেলায় সৃষ্টি হয়।
আদি ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমা ১৯৭৮ সালে এবং ১৯৮৪ সালে কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও নেত্রকোণাকে পৃথক পৃথক জেলায় উন্নীত করা হয়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে রাজস্ব আদায়, প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে স্থানীয় বিদ্রোহ দমনের জন্য ময়মনসিংহ জেলা গঠন করা হয়।
১৭৮৭ সালের ১ মে তারিখে এই জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়।
শুরুতে এখনকার বেগুনবাড়ির কোম্পানিকুঠিতে জেলার কাজ শুরু হয়, তবে পরবর্তী সময়ে সেহড়া মৌজায় ১৭৯১ সালে তা স্থানান্তরিত হয়। আদি ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থান একে একে সিলেট, ঢাকা, রংপুর ও পাবনা জেলার অংশ হয়ে পড়ে। ১৮৪৫ সালে জামালপুর, ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ, ১৮৬৯ সালে টাঙ্গাইল ও ১৮৮২ সালে নেত্রকোণা মহকুমা গঠন করা হয়। পরে সবকটি মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়। ময়মনসিংহ শহর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১১ সালে। শহরের জন্য জায়গা দেন মুক্তাগাছার জমিদার রঘুনন্দন আচার্য্য। ১৮৮৪ সালে ময়মনসিংহের রাস্তায় প্রথম কেরোসিনের বাতি জ্বালানো হয়। ১৮৮৬ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ ও ১৮৮৭ সালে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়।
কথিত রয়েছে মোঘল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তার নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী।
ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি।
নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ছিল একটি ভুলের কারণে। বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল অ্যান্ড কোম্পানির পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়।
সেই একটি ভুল থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে কোনো কোনো ইতিহাসবিদদের মতে, মোঘল সেনাপতি মনমোহন সিংহ ঈসা খাঁকে দমন করতে যাওয়ার পথে এখানে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করেছিলেন। এজন্য এখানকার নাম হয়ে যায় ময়মনসিংহ।
এ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে গাজীপুর জেলা, পূর্বে নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১ নং সেক্টরের আওতাধীন ছিল ময়মনসিংহ।
