ময়মনসিংহ ফুলবাড়ীয়া উপজেলার দেওখোলা বাজারস্থ মসজিদ মার্কেট সামনে শুভকে হত্যার প্রধান আসামী জয়নাল আবেদীন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে ৬ আসামীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রাত ১০ঘটিকায় হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মম ভাবে এনামুর রহমান রবি (৪৫) সজল (২৫) হৃদয় (৩০) ও আক্তার উল আলম শুভ (৩১) কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় জয়নাল আবেদীন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। ঘটনারপর স্থানীয়রা গুরুতর আহত রবিসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে । আক্তার উল আলম শুভর অবস্থা আশংকাজনক হলে তাকে ঢাকা রেফার্ড করা হয়। শুভকে ঢাকা ধানমন্ডি আনোয়ারা খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে আইসিওতে রাখা হয়। শুভর অবস্থার অবনতি হলে তাকে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ১৫ দিন লাইফ সার্পোটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মে সকাল সাড়ে ৯ টায় শুভর মৃত্যু হয় । ঘটনার পরদিন ১৪ মে কে এম আতাউর রহমান বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় ১৫ জনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় । ১৫ মে অভিযোগটি আমলে নেন ফুলবাড়ীয়া থানা অফিসার ইন-চার্জ।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী বিরুধ সৃষ্টি হয়। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয় ।
দলীয় সিন্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় স্বেচ্ছাসেবকলীক নেতা এনামুর রহমান রবির উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন স্বতন্ত্র বিজয়ী সংসদ সদস্য মালেক সরকার ও তার সমর্থকরা ।
গত ১৩ মে রাতে ফুলবাড়ীয়ার এমপির সমর্থক জয়নাল আবেদীন তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নির্বাচনী বিরুদের জের ধরে তাদের উপর পরিকল্পিত হামলা করেন ।
হামলাকারী জয়নাল গংরা গত ২৬ মে উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন ৬ আসামী। উচ্চ আদালত ৬ আসামীকে ময়মনসিংহ বিচারাধীন আদালতে জামিন শেষ হওয়ার পূর্বেই হাজির হওয়া নির্দেশনা দেন।
উচ্চ আদালতে জামিনপ্রাপ্ত ১,২,৩,৮,৯,১২ নং আসামী যথাক্রমে জয়নাল আবেদীন, ফারুক, আরিফ, সাদ্দাম হোসেন, শাহজাহান ও মাহির মিশু ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ময়মনসিংহ চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোমিনুল ইসলাম এর আদালতে ৬ জন আসামী হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে, বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে আসামীদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন ।
মন্তব্য