কেরানীগঞ্জ এলাকায় নির্মম ভাবে হত্যা পর ময়মনসিংহের বিদ্যাগঞ্জ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে লাশ ভাসিয়ে দেয়া লাশের পরিচয় সনাক্ত করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ২ খুনি গ্রেপ্তার ।
পুলিশের একটি সুত্র জানান, গত ২২ অক্টোবর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ । ক্লু-লেস নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে নিহত ভিকটিম এর পরিচয় সনাক্তকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নামেন কোতোয়ালী পুলিশ। নিরলস প্রচেষ্টায় খুনিদের সনাক্ত করে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।
সুত্র আরো জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ খুন করে বিদ্যাগঞ্জ ঘাটে ব্রম্মপুত্রের বুকে পেট কেটে ডুবিয়ে দেয় খুনিরা। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে খুনের পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহে এনে ব্রম্মপুত্র নদে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য বিশ্লেষণের পর অবশেষে উন্মোচিত করেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য।
মামলার এক নম্বর আসামি রায়হান এবং দ্বিতীয় আসামি ইয়াসিন তাদের নিজ বাসায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে হত্যা করে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ গাড়িতে করে বিদ্যাগঞ্জ ঘাট এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে লাশের পেট কেটে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। যাতে লাশ ভেসে না উঠে এবং পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। কিন্তু বিধিবাম তাদের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। বিদ্যাগঞ্জ এলাকায় নদীতে ভাসমান লাশ উদ্ধারের পর ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি ‘ক্লু-লেস’ হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলা নং ১০৫(১০)২০২৫ ইং। মামলাটি শুরু থেকেই সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন, এসআই মাহাবুব এবং এএসআই হুমায়ুন কবির এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ময়মনসিংহ সদর সার্কেল অফিসার এবং কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ মোঃ শিব্বিরুল ইসলাম এর সরাসরি তদারকি ও দিকনির্দেশনায় মামলার তদন্ত ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়। মিলে যায় অজ্ঞাত এই লাশের পরিচয়। নিহতের নাম আবু সাইদ।
গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং মাঠ পর্যায়ের অভিযানের মাধ্যমে নিহত আবু সাইদের খুনি রায়হান ও ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান ও ইয়াসিন উভয়েই আবু সাঈদকে হত্যা এবং লাশ নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছে।
মন্তব্য