প্রতারণা, হয়রানি, জমি দখল, স্ত্রীদের অমানুষিক নির্যাতন, মামলায় জড়িয়ে এলাকার নিরীহ প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষকে হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর নিজের অপরাধকে ধামাচাপা দিতে হয়রানি ও প্রতারণার নতুন কৌশল বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে মুক্তাগাছা উপজেলা আমোদপুর গ্রামের শেখ মো: আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় কলেজের কম্পিউটার ডেমোন্সট্রেটর শেখ মোঃ আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে সংবাদের প্রতিবাদ ছাপাতে সংবাদকর্মীকে ম্যানেজ করতে না পেরে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকারী এক সংবাদকর্মীর নামে হুমকি প্রদর্শন উল্লেখ করে মুক্তাগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সাধারণ ডায়েরি তদন্ত করছেন এস আই আতিউর রহমান।
আক্তারুজ্জামানের জেঠাতো বোন মুক্তা জানান, আমার পৈতৃক সম্পত্তি শেখ মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার ছেলে শেখ মোঃ আক্তারুজ্জামান জুয়েল জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। আমরা দুই বোন, আমাদের কোন ভাই নাই, জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নং-৩৭/২০০৯ইং। আমি মামলার সাক্ষী হওয়ার কারনে আমার বসত ঘরে প্রবেশ করে হত্যার চেষ্টা করে। আমার শিশু সন্তানের পশ্চাদ্দেশে কলম ঢুকিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে নিজের আত্মরক্ষায় পৈতৃক ভিটা বাড়ী ছেড়ে ময়মনসিংহ নগরীতে ভাড়া বাসায় নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছি বলে কান্নায় ভেঙে পরেন।
তার প্রথম স্ত্রী ইসমত আরা বেগম জানান, আমি একজন কন্যা সন্তানের জননী। আমার মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। আক্তারুজ্জামান জুয়েলের যৌতুকের চাহিদা পূরন করতে না পারায় তার অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে পিত্রালয়ে চলে আসি। আমাকে একবার তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে এবং আমার অনুমতি না নিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।সে আমার ও আমার মেয়ের কোন প্রকার ভরনপোষণ করেনা। এসএসসি পরীক্ষার পর পিতার অধিকার আদায়ে আমার মেয়ে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আক্তারুজ্জামান জুয়েলের দ্বিতীয় স্ত্রী’র অভিযোগ, আমার বিয়ের সময় আক্তারুজ্জামান জুয়েল তার প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখেছেন, আমি এক সন্তানের মা হওয়ার পর জানতে পারি তিনি আগেও একটি বিয়ে করেছেন এবং সেই স্ত্রী’র ঔরশে জন্ম নেওয়া একজন কন্যা সন্তান রয়েছে। বর্তমানে যৌতুক লোভী স্বামী আক্তারুজ্জামান জুয়েলের পৈশাচিক অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে মুক্তাগাছা ভাড়া বাসায় বাচ্চাদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনভাবে বসবাস করছি।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী আদালতে ভরনপোষণ মামলা দায়ের করায় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি মামলার স্বাক্ষীদের পর্যন্ত মামলায় জড়িয়ে হয়রানিসহ জগন্যতম অপবাদ অব্যাহত রেখেছেন। যার মামলা নং-৮৪/২০২১।
সরেজমিন তদন্তে মুক্তাগাছা স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, আক্তারুজ্জামান জুয়েল ভয়ংকর প্রতারক। মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ে কম্পিউটার ডেমোন্সট্রেটর হিসেবে চাকুরী করে নিজেকে প্রভাষক পরিচয়ে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তার প্রথম স্ত্রী’র কাছে যৌতুক দাবী করে অমানুষিক নির্যাতন করে একটি কন্যা সন্তানসহ তাড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার দ্বিতীয় স্ত্রী (স্কুল শিক্ষক) তার স্বামী আক্তারুজ্জামান জুয়েলের যৌতুকের চাহিদা মেটাতে না পারায় অমানুষিক, অমানবিক ও শারীরিক নির্যাতন সইতে না পের সন্তানদের নিয়ে মুক্তাগাছা ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। যা নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যাক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশি দরবার করেও কোন সুরাহা করতে পারেননি।
এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে আক্তারুজ্জামান জুয়েলের ০১৯২৩৭৪০৮৮১ নাম্বারে ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে হুয়াটস এ্যাপে মেসেজ করলে তিনি কোন সাড়া দেয়নি। আমোদপুর তার গ্রামের বাড়িতে গেলে তার বয়োবৃদ্ধ পিতা শেখ মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান আক্তারুজ্জামান জুয়েল বাড়িতে নেই।
চলমান…।
মন্তব্য