ময়মনসিংহে গত ২১ মে মঙ্গলবার রাত সারে নয়টায় কোতোয়ালি থানাধীন চরকালিবাড়ি এলাকায় ইমন বাহিনীর গুলিতে আলতাফ আলী মৃত্যু হয়। হত্যাকান্ড ঘটিয়ে রাসেল খান ইমন ও তার সহযোগীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়।
হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মাছুম আহম্মাদ ভুইঞা’র নির্দেশে কোতোয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে এলাকার পরিবেশ শান্ত করেন। এবং ইমন বাহিনীকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ২১মে রাত সারে নয় ঘটিকার সময় কোতোয়ালী মডেল থানাধীন চর কালীবাড়ী সাকিনে পীরবাড়ী রোডস্থ জনৈক মাইনুদ্দিন মানু মিয়ার হোটেলের ভেতরে ধৃত আসামী ইমন বাহিনীর প্রধান রাসেল খান ইমন সহ অপরাপর আসামীগন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে প্রবেশ করে মানু মিয়াকে হোটেলের ভেতর থেকে টেনে হেচড়ে বের করে রামদা দিয়ে পেছন দিক থেকে ডান পায়ের হাটুতে কোপ দেয়। এবং এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে। এমন সময় ভিকটিম আলতাব আলী (৬১) মসজিদ হইতে এশার নামাজ পড়িয়া ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মাইন উদ্দিন মানু মিয়াকে মারপিট করতে দেখিয়া ফিরাইতে গেলে আসামী রাসেল খান ইমন হত্যার উদ্দেশ্যে তাহার হাতে থাকা একনলা বন্দুক দিয়া আলতাফ আলীকে গুলি করে।
স্থানীয়’রা আলতাফ আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে রাত সারে এগারোটায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ আশিকুর রহমান বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৬৩, তারিখ-২২/০৫/২০২৪ইং, ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০২/১১৪/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ মোহাম্মাদ মাইন উদ্দিন হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত ইমন বাহিনীকে দ্রুত গ্রেফতারে জন্য পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে পুলিশে একটি টিম গঠনের নির্দেশ দেন। এস আই দেবাশীষ সাহা ও এএসআই হুমায়ুন কবির এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি চৌকষ টিম গঠন করেন । এবং এসআই দেবাশীষ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযানে নেমে ২৪/০৫/২০২৪ তারিখ ১২.০৫ ঘটিকার সময় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হত্যা মামলার মূল আসামী রাসেল খান ইমন (২৭), পিতা-জহুর আলী, সাং- চরকালীবাড়ী, থানা- কোতোয়ালী, জেলা- ময়মনসিংহকে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানাধীন সাতারপুল বৌলাই এলাকা হইতে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী জানায় যে গত ২১/০৫/২০২৪ তারিখ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং নিজের শক্তি জানান দিতে ইমন বাহিনীর প্রধান রাসেল খান ইমন সঙ্গীয় দলবল নিয়ে অস্ত্র সহ মহড়া দেওয়ার সময় তার সাথে থাকা একনলা বন্দুক দিয়া গুলি করে।
ইমন গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী রাসেল খান ইমনের স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী ইং-২৪/০৫/২০২৪ তারিখ ভোরে চরকালীবাড়ী মধ্যপাড়া আঃ মজিদ হামতি এর বসত বাড়ীতে লেবু গাছের নিচে প্লাষ্টিকের বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় আসামী নিজ হাতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে প্লাষ্টিকের বস্তা বের করে দেয়। বস্তার ভিতরে একনলা একটি বন্দুক এবং বন্দুকের চেম্বারে একটি খালি ( হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত) গুলির খোসা পাওয়া যায়। যাহা জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এব্যাপারে প্রেসব্রিফিং করেন। প্রেসব্রিফিং উপস্থিত ছিলেন, এএডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) শাহিনুল আলম ফকির, কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন, এস আই দেবাশীষ ও এএসআই হুমায়ুন কবির সহ অফিসারগন।
পুলিশ হত্যাকান্ডের মুল আসামী ইমন বাহিনীর প্রধান রাসেল খান ইমনকে অভিয়ান চালিয়ে ৪৮ ঘন্টার ভেতর গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
অন্যান্ন আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
মন্তব্য