ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরীর ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব নিয়ে শুরু হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং স্পর্শকাতর কর্মতৎপরতা। সম্প্রতি ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫ কেন্দ্র করে গঠন করা হয় নির্বাচন কমিশন এবং ঘোষণা করা হয় তফসিল। ২৭ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়। সকল আনুষ্ঠানিক ঠিক থাকলেও শেষাংশে এসে হঠাৎ নির্বাচন কমিশন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩ কর্মকর্তা।
পদত্যাগকারী কর্মকর্তা হলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা এডভোকেট এ.এইচ.এম খালেকুজ্জামান ও ডা.কে.আর. ইসলাম এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আঃ সামাদ আজাদী।
পদত্যাগকারী ৩ কর্মকর্তা গত সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক বরাবর তাদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
পদত্যাগী কর্মকর্তাগন উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে নির্বাচন নিয়ে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত বিরাজমান রয়েছে। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদ গঠিত কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে আসছে। ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোন নির্বাচনে কোন প্রার্থী কিংবা কোন সদস্য নিরপেক্ষতা বিষয়ে প্রশ্ন তোলেনি। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাচন সুষ্ঠু-সুন্দর এবং নিরপেক্ষতা দৃষ্টান্ত রয়েছে।
কিন্তু এবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন/২০২৫ অংশগ্রহণ করা একটি প্যানেলের প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং বলেন যে, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানে নেই।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে ফোনে মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে হুমকি। হুমকি দিয়ে বলেন, প্রেসক্লাবে সে যেন আর না যায়। হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কর্মকর্তা ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারন ডাইরী (জিডি) করেছেন।
পদত্যাগ করা ৩ কর্মকর্তা তাদের পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের প্রার্থীদের নমিনেশন পেপার দাখিলের দিন এক পক্ষের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তাদের নমিনেশন দাখিল করে সেই কক্ষেই তালা দিয়ে কিছু বহিরাগত লোক নিয়ে অন্য কেহ যেন কোন নমিনেশন পেপার দাখিল করতে না পারে তার বাধার সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার স্বয়ং প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে প্রেসক্লাবের চলমান সাধারণ সম্পাদক অমিত রায়ের উপস্থিতিতে অপর পক্ষের নমিনেশন পেপারে স্বাক্ষর ও তারিখ দিয়ে তা গ্রহণ করেন।
এসময় প্রেসক্লাবের হিসাব রক্ষকের কক্ষে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর মাধ্যমে বাধাগ্রস্থ হন। উল্লিখিত পরিস্থিতিতে আমরা নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রম করতে নিরাপদবোধ করছিনা। বিধায় আমরা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হইতে একযোগে ৩ কর্মকর্তা পদত্যাগ করিলাম।
এবিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করতে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী সাইফুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যকে বলেছি, আপনি নির্বাচন কমিশন সদস্য হয়ে পক্ষপাত আচরণ করছে। আপনি নির্পেক্ষতার হারিয়ে ফেলছেন। আপনার আর প্রেসক্লাবে আসার দরকার নেই।
বহিরাগত লোকজনের বিষয়ে তিনি বলেন, ঐদিন সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ (বিএনপি-জামাত সমর্থিত) এর সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভায় ৬০ জনের অধিক সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকেই ময়মনসিংহ জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে পেশাদার সাংবাদিক। উনারা তাদেরকে বহিরাগত লোক বলে প্রচার করছে। এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ এর সদস্যদের নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক অপপ্রচার করছেন। পাশাপাশি কমিশন সদস্য নিজের পক্ষপাতমুলক আচরণকে ধামাচাপা দিতে এমন চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, কমিশন সদস্য তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব এর সভাপতির কাছে অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক এর প্রতিনিধি হয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রেসক্লাবে এসে ঘটনার খবর নেন। অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসককে সত্য ঘটনা অবগত করেছেন।
দ্বায়িত্বশীল একটি সুত্র জানান, এ ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনায় ভিতর সুযোগের সন্ধানে ঘাপটি দিয়ে রয়েছে আরেকটি চক্র। সুযোগ সন্ধানী চক্র রয়েছে সুযোগের অপেক্ষায়। যেকোন সময় হতে পারে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারে চেষ্টা। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাচন ইস্যুতে এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষে গড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন প্রেসক্লাব সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য