ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় আমোদপুর গ্রামের শেখ মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে শেখ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জুয়েল’র ভয়ঙ্কর প্রতারনা ফাঁদ থেকে রেহাই পাচ্ছেনা স্ত্রী, নিকটাত্মীয় সহ নিরীহ গ্রামবাসী। এমনকি হয়রানির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা কর্মস্থলে ছাত্রীরাও ।
প্রথম স্ত্রী’কে ডিভোর্সের নাটক সাজিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে, নিকটাত্মীয়সহ গ্রামের প্রায় অর্ধশত নিরীহ মানুষের জমি আত্মসাৎ করার জন্য হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সর্বশান্ত করার চক্রান্ত করে ক্ষতি সাধনের অপ-চেষ্টায় অব্যাহত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে শেখ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জুয়েল’র বিরুদ্ধে।
এব্যাপারে জুয়েলের চাচাতো ভগ্নিপতি জালাল উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি জানায়, শিক্ষকতার আড়ালে মূখোশধারী আক্তারুজ্জামান জুয়েল ভূমি দখলসহ একাধিক নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থনৈতিক ফায়দা গ্রহন, কর্মস্থলের ছাত্রীদের হয়রানি, কর্মস্থলে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ক্লাশ রুমে না গিয়ে নিজের ইচ্ছামতো আদালতে মামলা সংক্রান্ত তদবিরে উপস্থিত থাকা, বিভিন্ন পন্থায় অন্যের সামাজিক সম্মান নষ্ট করতে অপ-প্রচার চালিয়ে মানুষিক চাপ সৃষ্টি করতে জগন্য কৌশল অবলম্বন করে অর্থ আদায় করতে ভয়ঙ্কর কৌশল অব্যাহত রেখেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার আক্তারুজ্জামান জুয়েলের হাত থেকে রক্ষা পেতে রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারস্থ হলেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন।
গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান, মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় কলেজের কম্পিউটার ডেমোন্সট্রেটর হিসেবে কর্মরত মূখোশধারী আক্তারুজ্জামান জুয়েল নিজেকে কখনো সাংবাদিক, কখনো প্রভাষক পরিচয়ের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিকটাত্মীয় স্বজনদের জমি দখল, এলাকায় নিরীহ মানুষকে বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়সহ একাধিক বিয়ে করে স্ত্রীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায়েরমত জগণ্যতম ভয়ঙ্কর অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি জুয়েলের কৌশলের কাছে।
তার এক স্ত্রী রিপা সুলতানা জানান, জুয়েলের অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হওয়ায় দুইটি সন্তানের কথা এবং নিরাপত্তার জন্য আদালতের দারস্থ হয়েছেন।
আক্তারুজ্জামান জুয়েলের প্রথম স্ত্রী ময়মনসিংহে গণপূর্ত সার্কেলে কর্মরত মোছাঃ ইসমত আরা বেগম জানান, তিনি আমার অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে, তিনি পুরুষ নামের কলঙ্ক।
আক্তারুজ্জামান জুয়েলের চাচাতো বোন জানান, আমার পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিজ দখল রেখেছেন।
মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় কলেজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক জানান, ভুয়া সনদে কম্পিউটার ডেমোন্সট্রেটর পদে নিয়োগ নিয়ে নিজে প্রভাষক পরিচয়ে দাপটের সাথে ছাত্রীদের ফলাফলের নাম্বারের ভয় দেখিয়ে মানুষিক ও শারিরীক নির্যাতনের মত অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ কতৃপক্ষের নজরে এলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে রেহাই পান।
শেখ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জুয়েল স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান বলে মুক্তাগাছা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
তার দ্বিতীয় স্ত্রী জানান, মহান স্বাধীনতার বীরত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, টেলিভিশনের পর্দায় জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টেলিভিশনের পর্দায় প্রদর্শিত হলেই জুতা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে বেঙ্গ করে স্বাধীনতার অবদানকে অবমাননা করে বেশ কয়েকবার তোপের মূখে পরেছেন বলে বিভিন্ন মহলে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, জুয়েল একজন বহুরূপী ভয়ঙ্কর প্রতারক এবং পরধনলোভী অসামাজিক মানুষ। অর্থ সম্পদের লোভনীয় হয়ে নিজের রক্তকে অস্বীকার করতে দ্বিধা করে না। জুয়েলের প্রতারণায় বহু পরিবার ধ্বংস হয়েছে। জুয়েল তার প্রথম স্ত্রী’র সাথে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক । জুয়েল তার সকল অপকর্মের পরিকল্পনা সাজান প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে। স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্সের নাটক সাজিয়ে জুয়েল আরেকটি বিয়ে করে। দ্বিতীয় স্ত্রী’র ঔরসে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেওয়ার পর জানতে পারে তার প্রথম স্ত্রী’কে ডিভোর্স দেয়নি, একপর্যায় সংসার ভাঙ্গার পর্যায় চলে যায়। তখন নোঙরা ভাষায় অপবাদ লিখে রাতের আধাঁরে দেয়ালে দেয়ালে লিফলেট লাগিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে। বিষয়টি একপর্যায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিশ দরবার করে তাদের সমোঝোতা করে দেয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র আরও জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রী একজন প্রতিভাবান স্কুল শিক্ষক (জয়িতা খেতাব অর্জন করেন) । সালিশ দরবারে সমোঝোতার পর আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। দুই সন্তানের জননী হলেও রিপা সুলতানা স্বামীর ভরণপোষণ থেকে রয়ে গেছে বঞ্চিত।
অপরদিকে জুয়েল স্ত্রী সন্তানের ভরনপোষণ না দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর স্কুলের বেতনের টাকা, পেনশনের টাকা অগ্রীম তার নামে লিখে দেওয়ার চাপ প্রয়োগ করে অমানবিক, অমানুষিক নির্যাতনের পথ বেছে নেন। স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী রিপা সুলতানা দুই সন্তান নিয়ে মুক্তাগাছা একটি ভাড়া বাসায় প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতার মাধ্যমে আতংকিত দিন কাটাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে আদালতে ভরনপোষণের মামলা দায়ের করেন।
এবিষয়ে আক্তারুজ্জামান জুয়েলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে অখথ্য ভাষায় গালিগাল করে এক পর্যায় বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে তার মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য